Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভিসার ফাঁদে বাংলাদেশিদের পাচার ও বিক্রি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪

ভিসার ফাঁদে বাংলাদেশিদের পাচার ও বিক্রি

ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে। কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তে গড়ে ওঠা এসব কম্পাউন্ডে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করানো হচ্ছে। নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং মানবেতর জীবন; সব মিলিয়ে এ অভিবাসন প্রতারণা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, তাকে দালালরা চাকরির নামে পাঠিয়ে চায়নিজ নাগরিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে তাকে ড্রেন পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। কাজ না করলে মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেছেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হিসাবে, চলতি জুন মাসেই চার দিনে ২২১ জন ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, দালালরা তাদের ভিজিট ভিসায় পাঠায়। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর কোনো কোম্পানি খুঁজে পাননি। বরং স্থানীয় এজেন্সির প্রতিনিধিরা টাকার বিনিময়ে তাদের স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। সেখানে শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুতের শক এবং টর্চার সেলে আটকে রেখে কাজ করানো হতো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় এ ধরনের সাইবার অপরাধ আরো বেড়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত সিহানুকভিলের স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোকে ‘নরক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও জানিয়েছে, এসব সেন্টারে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে। সিটিটিসি ও পিবিআই পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। সম্প্রতি এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ে সে জড়িত ছিল।

কম্বোডিয়া সরকারও সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে এক হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন প্রদেশে শত শত বিদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। পুলিশ কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

Logo