বিদেশে চাকরির স্বপ্ন নিয়ে হাজারো তরুণ প্রতিদিন রিক্রুটিং এজেন্সির দ্বারে যায়। কিন্তু এই খাতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিদেশে কর্মী পাঠানো, লাইসেন্স বাতিলের পর অন্য নামে ব্যবসা চালানো কিংবা পুনরায় লাইসেন্স নিয়ে একই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম; সবই এখন সরকারের নজরদারিতে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ (Migration Law 2013) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বিদেশে কর্মী পাঠাতে পারবে না। একইভাবে Immigration Ordinance 1982-এর ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী এজেন্সিগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করতে হয়। যেমন- কর্মীর চুক্তিপত্র, ফি নির্ধারণ, নিরাপদ আবাসন ও কর্মস্থলের নিশ্চয়তা। এসব লঙ্ঘন করলে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা যায়।
সরকারি তালিকায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, অনেক অননুমোদিত দালাল এসব এজেন্সির নাম ব্যবহার করে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। তারা ভুয়া অফার লেটার, জাল ভিসা বা কাগজপত্র দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় বাতিল হওয়া এজেন্সি অন্য নামে নতুন লাইসেন্স নিয়ে আবারো ব্যবসা শুরু করে।
এই ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে চুক্তি আইন ১৮৭২ (Contract Act) ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ করা যায়। প্রতারিত ব্যক্তি লিখিত চুক্তি, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ ও যোগাযোগের তথ্যসহ অভিযোগ করলে মামলা করা সম্ভব।
প্রতারিত হলে প্রথমে বিএমইটি (BMET) বা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লিখিত অভিযোগ দিতে হয়। এরপর দালাল বা এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। আদালত চাইলে ক্ষতিপূরণ আদায় ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দিতে পারে।
আইনজীবীরা পরামর্শ দেন, বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেলে প্রথমেই এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর ও সরকারি অনুমোদন যাচাই করতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটে তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে সক্রিয় ও স্থগিত এজেন্সির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
সম্প্রতি সরকার লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা এনেছে। প্রতিটি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর তথ্য, চুক্তি ও ফি-সংক্রান্ত নথি অনলাইনে আপলোড করতে হচ্ছে। এতে অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স স্থগিত করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হলে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। দালালের প্রলোভনে না পড়ে সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমেই বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
logo-1-1740906910.png)