সরকার অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, বেটিং ও আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বাতিল করে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ সংসদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়া আইনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, রিমোট গ্যাম্বলিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে আইনি সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। সাইবার স্পেসে জুয়ার জন্য পোর্টাল বা অ্যাপ তৈরি, প্রচার বা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বেটিং করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা সার্ভারের মাধ্যমে বাংলাদেশে জুয়া পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে সরকার।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ম্যাচ ফিক্সিং করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড, আর স্পট ফিক্সিং করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি আদালত অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।
তবে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আইনের ৩৯(১) ও ৩৯(২) ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই ধারায় কর্তৃপক্ষকে কেবল ‘বিশ্বাস’ বা ‘সন্দেহের’ ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ, তল্লাশি, তথ্য সংগ্রহ, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সংগঠনটির মতে, বিচারিক অনুমোদন ও স্বাধীন তদারকি ছাড়া এ ধরনের ক্ষমতা নজরদারিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করতে পারে।
এইচআরএফবি বলেছে, ব্যক্তিগত তথ্য বা ডিভাইসে প্রবেশের ক্ষমতা অবশ্যই সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেওয়া ক্ষমতাও যথাযথ পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সরকার বলছে, পুরোনো আইন বর্তমান ডিজিটাল যুগে কার্যকর নয়। বিদেশভিত্তিক অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম চ্যানেল, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া ও অর্থপাচার তরুণ সমাজ, অর্থনীতি ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নতুন আইন জরুরি হয়ে পড়েছে।
logo-1-1740906910.png)