পরিবারের অভাব দূর করতে মাস দেড়েক আগে রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের যুবক আরমান আলী (৩০)। ধারদেনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনি বিদেশে যান। প্রতিশ্রুতি ছিল কোনো কোম্পানি বা নির্মাণশ্রমিকের কাজ পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তাকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এখন প্রাণহানির শঙ্কা নিয়ে যুদ্ধশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন আরমান। ইতোমধ্যে আহতও হয়েছেন তিনি। ভিডিও বার্তায় তিনি দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
আরমানের বাড়ি জামালপুরের গোদাশিমলা গ্রামে। তার স্ত্রী ও পাঁচ মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন প্রতিদিনই তার খবরের অপেক্ষায়। মা রেখা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে ফেরত চাই। সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিল, কিন্তু এখন যুদ্ধ করছে।”
২৬ মে আরমান ফোন করে জানান, তাকে রাশিয়ার সেনাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, রুশ সেনাদের পোশাক পরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছেন, “আমরা তো এই জীবন চাই নাই। শুধু ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার জন্য এসেছিলাম। এখন আমাদের মাছের টোপের মতো ব্যবহার করছে। ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে, আমরা চারজন জীবিত।”
ভিডিওতে তিনি আরো বলেন, “ফ্রন্টলাইনে না যেতে চাইলে মারধর করা হয়। মাটির নিচে বাঙ্কারে আটকে রাখে। আমাদের ভাষা বোঝা হয় না, কিছুই বুঝি না। আল্লাহ ভরসা।”
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আরমানের সঙ্গে আরো প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তাদেরও একইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম সরকারের কাছে ছেলেকে দেশে ফেরানোর সহযোগিতা চান। ছোট ভাই সালমান বলেন, “আমরা জানি না ভাই এখন কোথায় আছে, আদৌ বেঁচে আছে কিনা। শুধু চাই, নিরাপদে দেশে ফিরে আসুক।”
গ্রামে এখন আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার ছায়া। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন আরমানের বাড়িতে। সবাই একটাই প্রশ্ন করছেন- আরমান কি ফিরতে পারবে?
logo-1-1740906910.png)