প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২২
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে যাচ্ছেন মালয়েশিয়া ও চীন। আগামী ২১ জুন তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও শ্রমবাজার; সব ক্ষেত্রেই নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচনের আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের সঙ্গে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, যার মধ্যে থাকবে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা।
মালয়েশিয়া সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বাংলাদেশি শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং অনথিভুক্ত কর্মীদের বৈধতা দেওয়া। দুই দেশের সিন্ডিকেটমুক্তভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানো ও বিনাখরচে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। এছাড়া সংস্কৃতি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার জন্য দুটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কৃষি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হবে।
চীন সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), মুদ্রা বিনিময় চুক্তি, ঢাকায় চীনা ব্যাংক স্থাপন এবং চীনা মুদ্রায় বন্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, যমুনায় নতুন সেতু, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ ও কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তর; এসব প্রকল্পে সহযোগিতা চাওয়া হবে।
চীন বাংলাদেশের সঙ্গে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট, সিকিউরিটি, সভ্যতা ও গভর্ন্যান্স উদ্যোগে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি কর্মসূচিতে বক্তৃতা দেবেন এবং একটি বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ একাধিক প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা সফরসঙ্গী থাকবেন।
চীন সফরের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় পররাষ্ট্র সচিব ইতোমধ্যে বেইজিং সফর করেছেন। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমবাজার পুনরায় চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ; সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
logo-1-1740906910.png)