Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সিস্টেম বদল না করে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুললে লাভ নেই

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০

সিস্টেম বদল না করে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুললে লাভ নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে দেশে ও প্রবাসে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের চালুর সম্ভাবনা, অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের বৈধকরণ, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার সমাধান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত; সব মিলিয়ে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল শ্রমবাজার খোলা নয়, বরং অভিবাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারই এখন জরুরি। কারণ, গত দুই দশকে বারবার শ্রমবাজার খোলা ও বন্ধ হওয়ার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করেছে সমস্যাটি মূলত অভিবাসন কাঠামোর ভেতরে।

২০০৮ সালে বন্ধ, ২০১৬ সালে চালু, ২০১৮ সালে আবার বন্ধ, ২০২২ সালে নতুনভাবে চালু এবং ২০২৪ সালে স্থগিত; এই ইতিহাস দেখায়, বাজার খোলা বা বন্ধ হওয়াই আসল সমস্যা নয়। নিয়োগে অস্বচ্ছতা, সিন্ডিকেটের একচেটিয়া প্রভাব, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মানব পাচার ও প্রশাসনিক দুর্বলতা বারবার সংকট তৈরি করেছে। তাই এবারের সফরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিবাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা।

অতীতে কিছু প্রভাবশালী এজেন্সি পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কর্মীদের শোষণ করেছে। অনেক শ্রমিক বিদেশে যাওয়ার জন্য ঋণ নিয়ে জমি বিক্রি করেছেন, কিন্তু প্রথম কয়েক বছর আয় ঋণ শোধেই চলে গেছে। তাই এবার স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে, কোনো ধরনের একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মী নির্বাচন, চাকরির চুক্তি, ভিসা প্রক্রিয়া ও খরচের বিবরণ অনলাইনে উন্মুক্ত করতে হবে।

বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। মালয়েশিয়া এখন উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ করছে; যেমন- সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবোটিকস ও ডিজিটাল প্রযুক্তি। এই খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ যদি এখনো অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পুরোনো মডেলে আটকে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তাই যৌথ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন জরুরি।

মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের বড় অংশ কোনো অপরাধে জড়িত নন। প্রশাসনিক জটিলতা বা নিয়োগকর্তার প্রতারণার কারণে তারা বৈধ মর্যাদা হারিয়েছেন। বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে জরিমানা বা শর্ত পূরণ করে তাদের বৈধতা ফিরিয়ে দেওয়া মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে।

প্রবাসীদের জন্য আঞ্চলিক কনস্যুলার সেবা কেন্দ্র, মোবাইল সেবা ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনে বহু স্বল্প দক্ষ চাকরি কমিয়ে দেবে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত কমসংখ্যক কিন্তু অধিক দক্ষ কর্মী পাঠানো।

Logo