বিদেশে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতার চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৭
জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ বৃদ্ধিতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বৈধকরণ শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব আইন ও নীতির ওপর নির্ভরশীল।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতীয় উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
মন্ত্রী জানান, যেসব দেশে বাংলাদেশি নাগরিকরা যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া কাজ করছেন, সেসব দেশের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্বাগতিক দেশের আইন অনুযায়ী যোগ্য ও কর্মরত বাংলাদেশিদের বৈধতার সুযোগ সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দূতাবাসগুলো নিয়মিত কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে এবং ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা বা বৈধকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে সহায়তা করছে।
ইউরোপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্পেন সরকার প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আনুমানিক ২০ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নিরাপদ, বৈধ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনিয়মিত অভিবাসন প্রায়ই মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সরকার নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যমান বাজার ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদার করছে।
তিনি জানান, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মাল্টা, মরিশাস, স্পেন, সার্বিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, ফিজি, আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গায়ানার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা উন্নয়নই শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতার সনদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগের আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে বিনামূল্যে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে নার্সিং প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি তাদের টিএএফই ও টিভিইটি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ৬০ লাখ ডলারের প্রকল্প চালু করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের মূল্যবান সম্পদ। তবে অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও দেশের ভাবমূর্তি উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
logo-1-1740906910.png)