রাজশাহীর বানেশ্বর হাটে আমের খোঁজে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৫
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাটে গিয়ে পাঁচ জাতের আমের স্বাদ নিয়েছেন। ১৬ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় এই আমের হাটে পৌঁছান।
রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রদূতকে বাজার ঘুরে দেখান এবং বিভিন্ন জাতের আমের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দোকানে দাঁড়িয়ে তাকে ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ কেটে খাওয়ানো হয়। স্বাদ নেওয়ার পর রাষ্ট্রদূত জানান, তার কাছে ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া আম সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তিনি এই দুটি জাতের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত হাটে বিভিন্ন আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। তার সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি। কারণ, আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।”
তিনি আরো বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। তার মতে, কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। রাজশাহীর আমের তাজা স্বাদ তাকে মুগ্ধ করেছে।
বাংলাদেশের আম রপ্তানি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা শেক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তার মতে, রাজশাহীর মতো তাজা আম যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া কঠিন।
তিনি আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে বাংলাদেশে কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সারা বছর আম সহজলভ্য রাখা যাবে এবং হিমায়িত আম রপ্তানি বাড়বে। এতে বাংলাদেশের আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রপ্তানির সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।
logo-1-1740906910.png)