দেশে সক্রিয় ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ওয়েবসাইট বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত ২ হাজার ২২১টি ব্যাংক হিসাব নম্বরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অবহিত করা হয়েছে।
১৬ জুন রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সিআইডির চিঠির পর বিটিআরসি ইতোমধ্যে কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। বাকি সাইটগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মে মাস থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চারটি মামলা হয়েছে।
১৪-১৫ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন রায়হান খান, পাভেল রহমান ভূইয়া এবং আবু জোবায়ের সানি। রায়হান ও পাভেলকে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকা থেকে এবং সানিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।
সিআইডি জানায়, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়া হতো। জমার বিপরীতে ব্যবহারকারীদের জুয়ার অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করা হতো। চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত। কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থপাচার বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে। সরকার এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ অনুযায়ী, অনলাইন জুয়া, অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেন গুরুতর অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)