মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯
মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ রূপ এবং সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য গুরুতর হুমকি। ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এক আলোচনায় এ কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
১৫ জুন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ের কর্মশালা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা খানম বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ দালাল চক্রের প্রলোভনে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ গমনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এতে অনেকেই জীবন হারাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন কিংবা বিদেশে গিয়ে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসন মানুষের অধিকার হলেও অবৈধ অভিবাসন মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
জেলা প্রশাসক বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা এবং গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং দালাল চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে আরো সমন্বিত কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং অভিবাসন আইন ২০১৩ অনুযায়ী, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, অবৈধ নিয়োগ বা মানব পাচার গুরুতর অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফরিদা খানম বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
logo-1-1740906910.png)