Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জর্ডানে চাকরির লোভ দেখিয়ে মানব পাচার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮

জর্ডানে চাকরির লোভ দেখিয়ে মানব পাচার

সোনার হরিণ ধরার আশায় জমি কিংবা শেষ সম্বল বিক্রি করে ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন জর্ডানগামী সাধারণ মানুষ। কিন্তু তাদের সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে বুকভরা স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছিল একদল আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। বৈধ কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তারা জর্ডানে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার অভিনব প্রতারণা চালাচ্ছিল।

অবশেষে সিআইডির বিশেষ অভিযানে রাজধানীর বাড্ডার রূপায়ন মিলেনিয়াম স্কয়ার থেকে এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স” নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানের একটি গার্মেন্টস কোম্পানির নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে শ্রমিক ভিসার প্রলোভন দেখাচ্ছিল। তারা জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছিল।

সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল বাড্ডার সেই অফিসে অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য মাঞ্জুর প্রধানিয়া, ওসমান গনি ও কাজী আতা-ই-রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় ৫৫টি আসল পাসপোর্ট, ১৬টি চুক্তিপত্র এবং জালিয়াতির ডিজিটাল আলামত। তদন্তে দেখা যায়, জব্দকৃত পাসপোর্টের মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী শ্রমিকদের।

সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর বিজ্ঞাপন দিচ্ছিল। জর্ডানের আসল গার্মেন্টস কোম্পানি যখন জানতে পারে তাদের নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে মানব পাচার চলছে, তখন তারা জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির কাছে পৌঁছালে শুরু হয় ছায়াতদন্ত।

টাকা ও পাসপোর্ট হারিয়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। অনেকেই জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে তারা এখন নিঃস্ব। বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল। এটি সরাসরি অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Logo