কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে দেশে ফিরলেন আরো ৫২ জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরো ৫২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ১৫ জুন দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে গত ১২ ও ১৩ জুন আরো ৯১ জন দেশে ফেরেন। এ নিয়ে তিন দিনে মোট ১৪৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনায় জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের অভিযোগ, বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্রের মাধ্যমে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্র তাদের অর্থের বিনিময়ে চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়।
একজন ভুক্তভোগী জানান, স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। আরেকজন বলেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশি দালাল দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে সাইবার প্রতারণা চালানো হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যরাও সহযোগিতা করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরো ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক সাইবার জালিয়াতির কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানব পাচারের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে মানব পাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
logo-1-1740906910.png)