আগামী অর্থবছরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা এক জায়গা থেকেই সরকারি সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে বিএনপি সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের আয় নিরাপদ রাখা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা।”
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসেডোনিয়া; এই সাত দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই দক্ষ জনশক্তি যেন নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারে। এজন্য প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও সনদের মান নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।”
অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে যেসব খাতে কাজের চাহিদা বেশি, সেসব বিষয়ে বিশেষ কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালু করা হচ্ছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি প্রবাসী কর্মী যেন শুধু শ্রমিক নয়, দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে বিদেশে কাজ করতে পারে। এতে দেশের মর্যাদা বাড়বে, আয়ও বাড়বে।”
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই প্রবাসী আয় প্রবাহ ৩৭৫ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, “এই প্রবাহ ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে এবং প্রবাসীদের জন্য আরো সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।”
logo-1-1740906910.png)