বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমলো ৭৯ কোটি টাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৮:০৭
প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স প্রবাহে সহায়তা করতে ডিজিটাল ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ কমানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ বর্তমান অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বা ৭৯ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। তবে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ২৮ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের (৯৩১ কোটি টাকা) চেয়ে ৫১ কোটি টাকা কম। দেশের জনপ্রিয় দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো অর্থের ওপর ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়াসহ আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা, কল্যাণমূলক সেবা এবং জরুরি সহায়তা এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই পাবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, “জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী কর্মীদের বিশাল অবদান থাকলেও তাদের কল্যাণে পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ দিতে সরকার এখনো কুণ্ঠিত।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের কল্যাণমূলক কাজের সিংহভাগ খরচ মেটানো হয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে, যা মূলত প্রবাসীদের নিজেদের দেওয়া অর্থে পরিচালিত হয়। সরকারের কোষাগার থেকে নয়।
সাইফুল হক বলেন, “যারা বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় আরো বেশি বিনিয়োগ প্রাপ্য। আমরা আশা করেছিলাম সরকার পুরনো ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।”
logo-1-1740906910.png)