বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় প্রবাসী কর্মীরা নানা সমস্যায় পড়েন। কেউ আইনি জটিলতায় পড়েন, কেউ আবার নিয়োগকর্তার প্রতারণা বা বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যায় ভোগেন। এসব পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের পাশে থাকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB)। বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং প্রবাসীদের আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করে।
প্রবাসী কর্মী বিপদে পড়লে প্রথমে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করতে হয়। বোর্ড সাধারণত ১-২ দিনের মধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা শ্রম কল্যাণ উইংয়ে পাঠায়। এরপর দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং প্রায় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়।
সহায়তা পেতে কিছু নথি জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ
- পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিটের ফটোকপি, যেখানে আগমনী ও বহির্গমন সিল থাকতে হবে
এই নথিগুলো জমা দিলে বোর্ড দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠায়।
বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে সরাসরি কাজ করে। তারা স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ, আদালতে সহায়তা, নিয়োগকর্তার সঙ্গে আলোচনা এবং জরুরি প্রয়োজনে আশ্রয় বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে থাকে।
যদি কোনো প্রবাসী কর্মী আইনি জটিলতায় পড়েন, শ্রম কল্যাণ উইং স্থানীয় আইন অনুযায়ী তাকে সহায়তা করে। অনেক সময় প্রবাসীরা প্রতারণার শিকার হয়ে বেতন বা পাওনা টাকা পান না। এ ধরনের ক্ষেত্রে দূতাবাস নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ গ্রহণ করা জরুরি। এতে বিপদে পড়লে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে প্রবাসীদের উচিত সব নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।
বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়লে প্রবাসী কর্মীদের একা হতে হয় না। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তাদের পাশে থাকে। সঠিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সময়মতো আবেদন করলে প্রবাসীরা আইনি সহায়তা ও সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)