কক্সবাজারের টেকনাফে আবারো সাগরপথে মানব পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিচবনিয়া উপকূল দিয়ে মাছ ধরা ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচারের সময় ৫০ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় মানব পাচারে জড়িত ৯ জনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় স্কুলছাত্র আল শাহারিয়া। কয়েক দিন আগে বলীখেলা দেখতে যাওয়ার পথে সে অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে পাচারকারীরা ট্রলারে তুলে মালয়েশিয়া পাঠানোর চেষ্টা করছিল। শাহারিয়ার দাবি, ফারুক নামে এক ব্যক্তি তাকে মানব পাচারকারী দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের টেকনাফে নিয়ে আসে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র। তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙ্গা ও মারিচবনিয়া নৌঘাট পাচারকারীদের সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে বাহারছড়াসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটি আটক করা হয়। এতে ৫০ জনকে উদ্ধার ও ৯ পাচারকারীকে আটক করা হয়।
আটক ট্রলারের স্টাফরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, মাছ ধরার কথা বলে ট্রলারে আনা হয়েছিল। পরে মালিকের নির্দেশে মানুষ তোলা হয়। স্টাফ সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা দুই দিন মাছ ধরার পর হঠাৎ ট্রলারটি নোঙর করে কয়েকজনকে ডিঙি নৌকায় এনে ট্রলারে তোলা হয়। মাঝি শাহীন ও মালিক জসিম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব অপকর্ম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি ও অপহরণের পর দ্রুত পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার জন্য সেখানে একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন জরুরি।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, মানব পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)