বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। ৮ জুন মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রুশ কর্তৃপক্ষ এ প্রস্তাবের ওপর দ্রুত কাজ করতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই শিগগিরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনায় জনশক্তি রপ্তানি ১০ গুণ বাড়ানোর বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশ একমত হয়েছে যে বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম এবং তা বাড়ানো উচিত। রাশিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ সামগ্রীর বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। এ লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল রাশিয়া সফর করবে। রুশ পক্ষ এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।
বৈঠকে প্রযুক্তি সহযোগিতাও গুরুত্ব পেয়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি রুশ প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়ন এবং ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ স্থাপনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।
ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে রাশিয়া সফরে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিন দিনের এই সফরে জনশক্তি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)