চলতি জুন মাসের প্রথম ছয় দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬২ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
৪ থেকে ৬ জুন মাত্র তিন দিনে দেশে এসেছে ২০০ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। ফলে জুনের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ধীরগতি স্পষ্ট হয়েছে। তবে মাসিক হিসাবে পতন দেখা গেলেও সামগ্রিক অর্থবছরের চিত্র ইতিবাচক। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্স প্রবাহে সাম্প্রতিক এই পতন নিয়ে ব্যাংকিং খাত ও প্রবাসী মহলে নানা আলোচনা চলছে। ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ককে কেউ কেউ এর সঙ্গে যুক্ত করছেন। দেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে প্রবাসীদের একাংশের মধ্যে।
বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অতীতে একটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এসব কারণে বিভিন্ন সংগঠন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছে। ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন আন্দোলনও শুরু করেছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা গবেষণা পাওয়া যায়নি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী সময়, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিস্থিতি, ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার, হুন্ডি কার্যক্রম এবং প্রবাসীদের মৌসুমি প্রবণতাসহ নানা কারণে স্বল্প সময়ে রেমিট্যান্সে ওঠানামা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক দ্রুত নিরসন না হলে প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব আগামী দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়তে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা কতটা বাস্তব হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহের রেমিট্যান্স প্রবাহের গতিধারার ওপর।
logo-1-1740906910.png)