প্রধানমন্ত্রীর সফরে খুলতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪০
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আগামী ২১ জুন কুয়ালালামপুর সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফর ঘিরে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও এ সফরকে কেন্দ্র করে জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আশা করছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর শেষে জানিয়েছেন, বাজারটি শিগগিরই খুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে সিন্ডিকেট ফিরে আসার আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধন ছাড়াই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আলোচনা চলছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা এসেছে। তবে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন না আসা পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হবে না। পুরনো ১০০ এজেন্সির তালিকা বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেটিই এখন বহাল আছে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, বর্তমান এমওইউ ও মালয়েশিয়ার শর্তগুলো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির হাতে নিয়োগ কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করতে পারে। এতে অতীতে যেভাবে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, একই পরিস্থিতি আবারো ফিরে আসতে পারে। ২০২২ সালে শ্রমবাজার খোলার পর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সরকার নির্ধারিত খরচ ৭৯ হাজার টাকা হলেও অনেক কর্মীকে প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছিল।
বাংলাদেশের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার। তারা ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজার খোলার আগেই বড় অংশের চাহিদা অন্য দেশগুলো পূরণ করে ফেলছে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, “আমি যতদিন মন্ত্রী থাকবো, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। আমাদের জিরো টলারেন্স।” তিনি আরো জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে পরিষ্কার প্রস্তাবনা আসবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে হলে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান এমওইউ পুনর্বিবেচনা করে সব যোগ্য এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির কর্মপরিবেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং বেতন-ভাতাও তুলনামূলক ভালো। তাই বাজারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।
logo-1-1740906910.png)