মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কোনো সিন্ডিকেট হবে না: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি যদি মন্ত্রী থাকি, এখানে কোনো সিন্ডিকেট হবে না। জিরো টলারেন্স। ইনশাআল্লাহ ১০-১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ধরে সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়, যা ‘সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। ২০১০ সালে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি শ্রম অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিশালী ব্যবস্থায় পরিণত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ১০০ এজেন্সির একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ১৮ হাজার কর্মীকে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় একটি নতুন সেল গঠন করেছে। প্রবাসীরা সরাসরি অভিযোগ জমা দিতে পারবেন, পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। minister@probashi.gov.bd এবং minister.expat@gmail.com ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে অভিযোগের অগ্রগতি মন্ত্রী ও সচিবকে জানানো হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য একটি নতুন কার্ড চালু করা হবে, যা ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয় ও তথ্য ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং হাসপাতালে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বৈধভাবে দেশে অর্থ পাঠানো প্রবাসীদের জন্য এই কার্ড বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রী বলেন, কোনো এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর তারা অন্য নামে ব্যবসা শুরু করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়কে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করতে না পারলে আমি চলে যাব। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।” তিনি জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অগ্রগতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয়টি তার অগ্রাধিকার।
logo-1-1740906910.png)