ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। শুক্রবার ঢাকার মিরপুর ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে র্যাব চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃতরা হলেন এজাজুল হক ওরফে রতন, নার্গিস বেগম এবং মো. বাদল।
ইমরান একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার বাড়ির পাশেই থাকতেন আসামি নার্গিস ও বাদল। সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা ইমরানকে ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখান। পরে তাকে রতনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। রতন প্রথমে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২২ লাখ টাকা দাবি করেন। ইমরান ধাপে ধাপে কয়েক লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইমরান প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দেন। পরে আরও পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিছুদিন পর রতন জানান, ইতালি সরকার লোক নেওয়া বন্ধ করেছে। এরপর জার্মানি পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং ইমরান আরো তিন লাখ টাকা দেন। পরে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে জার্মানি যাওয়া বাতিল করে তাকে কানাডায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এ জন্য আরো ১১ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
কয়েক মাস পর ইমরান জানতে পারেন, রতনের অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মোট প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
র্যাব জানায়, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের মামলা চলছে।
logo-1-1740906910.png)