Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

২০২৭ সালের মধ্যে ৫১ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গড়ার লক্ষ্য সরকারের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭

২০২৭ সালের মধ্যে ৫১ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ গড়ার লক্ষ্য সরকারের

সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং উচ্চ সুদের হারের ওপর ভর করেই এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তখন রেমিট্যান্স বেড়েছিল এবং আমদানি ব্যয় তুলনামূলক কম ছিল। তবে সেই হিসাব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের হিসাবে ইডিএফ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্যারান্টি এবং কিছু সিকিউরিটিজ যুক্ত করে রিজার্ভের পরিমাণ বেশি দেখায়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, রিজার্ভ বাড়াতে হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী রাখতে হবে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তার ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে শুধু রিজার্ভ বাড়ালেই হবে না; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, অন্যদিকে রপ্তানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের জুন শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার, তবে আইএমএফের হিসাবে তা ২৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীল বিনিময় হার এবং উচ্চ সুদের হার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমদানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘ হলে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যেতে পারে, এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার কিছুটা কমেছে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। পুরোনো ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির পরিবর্তে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট সহায়তা পেতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও আরো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা আসতে পারে। তবে এসব ঋণের কারণে ভবিষ্যতে সুদ পরিশোধের চাপ বাড়বে।

Logo