প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর: মালয়েশিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বিশাল শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৯ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বিভিন্ন খাতে কর্মরত আছেন। তাদের স্বার্থ রক্ষা ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।
সফরে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত রিক্রুটিং ফি কমানো, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণভিত্তিক জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করা, প্রবাসীদের কল্যাণ ও সুরক্ষা জোরদার করা এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও সফরের অংশ হবে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশি আম ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টি, হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।
এই সফর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করবে। একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, বৈধ পথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে এই সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
logo-1-1740906910.png)