বাংলাদেশে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। সদ্য বিদায়ী মে মাসেও দেশে এসেছে তিন বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রবাসী আয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে আয় হয়েছিল ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। ডিসেম্বর মাসে আয় হয়েছিল ৩২২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি এবং এপ্রিলে ৩১২ কোটি ডলার। মে মাসে সেই ধারাবাহিকতা আরো শক্তিশালী হয়েছে।
প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। মে মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যার মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪১ কোটি ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মে মাসে মোট ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে, প্রায় সোয়া ২৪ কোটি ডলার আয় এসেছে তাদের মাধ্যমে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার, যা সার্বিকভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে মার্চ ও এপ্রিলে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। মে মাসে ঈদুল আজহা সামনে রেখে সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় প্রবাসীরা বেশি ডলার পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে মোট ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সোমবার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।
logo-1-1740906910.png)