Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের ৮ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১৯:১৯

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের ৮ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ

দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এখানে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ধরনের বড় উড়োজাহাজসহ দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কার্গো বিমান সহজে অবতরণ করতে পারে। প্রকল্পে থাকবে চারতলা আধুনিক টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং আধুনিক আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি।

বর্তমানে প্রকল্পের ডিজাইন ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বুয়েটকে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নকশা ও ডিপিপি প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ থেকে ৬০০ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ১৯৮০ সালে যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার দশক পর এটিকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অবকাঠামো জরাজীর্ণ হলেও নতুন প্রকল্পে রানওয়ে সম্প্রসারণ, টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণ, নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫৮২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং রানওয়েকে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সময় লাগবে তিন বছর।

বেবিচকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী বিমানবন্দর ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত কাজ শুরু করার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল হলে দেশের কৃষি, ব্যবসা ও পর্যটন খাতে বড় গতি আসবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিশাল বাজেটের এই উদ্যোগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর সচল রয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়া হলেও সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

Logo