ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় বিক্রি, নির্যাতন চালিয়ে আদায় ৬৩ লাখ টাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ১২:৪০
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে এক যুবককে অপহরণ ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আদায় করেছে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত চালিয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
২৬ মে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী সোহেলকে ইতালি পাঠানোর নামে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে অপহরণকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অপহরণকারীরা ইমো অ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠাতো, যেখানে সোহেলকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দেখা যেত। ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে আরো টাকা আদায় করা হয়। নির্যাতনের মধ্যে ছিল হাতের নখ থেঁতলে দেওয়া, শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর। দীর্ঘদিন তাকে অনাহারে ও অর্ধাহারে আটকে রাখা হয়।
সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, মুক্তিপণ ও ডলার ভাঙানোর নামে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী উর্মি বেগম গত ৬ এপ্রিল তুরাগ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
তদন্তে টিটু মীর, রহিমা বেগম ও ইসমাইল দেওয়ানসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে মুক্তিপণ আদায়, ব্যাংক হিসাব ব্যবহার এবং বিদেশে থাকা মূলহোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহায়তায় চক্রটির একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের ধারাবাহিক অভিযানের চাপে অপহরণকারীরা শেষ পর্যন্ত সোহেলকে লিবিয়ায় একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যান। এরপর পিবিআই, ইউএনওডিসি, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সমন্বয়ে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়। গত ৩ মে তাকে ত্রিপলীর আইওএম আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয় এবং ২৫ মে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার ও অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
logo-1-1740906910.png)