ভারত থেকে মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। জার্মানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
বিজিবির ৬০তম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম রয়টার্সকে জানান, সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে, যাতে বাসিন্দারা সচেতন থাকেন এবং জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার এবং মাদক ও অন্যান্য সামগ্রীর চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বর্তমানে সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ক্ষমতায় রয়েছে। সম্প্রতি এসব রাজ্যের সরকার নথিপত্রহীন অভিবাসন সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি মানুষের জাতীয়তা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের দাবি, তারা বাংলাদেশি এবং অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিনটি উপজেলায় প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। এসব এলাকা দিয়েই গত এক বছরে কয়েকশ মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে আসামের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভারতের কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কার করছে।
বাংলাদেশ বারবার জানিয়েছে, যে কোনো প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সীমান্ত দিয়ে একতরফাভাবে এবং জোর করে কাউকে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই বিজিবি সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলছে।
logo-1-1740906910.png)