রাশিয়ায় নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি কর্মীর ভিসায় গিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণে বাধ্য হচ্ছেন ৩০ বাংলাদেশি- এমন অভিযোগ তুলে তাদের পরিবার দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে। রোববার (২৪ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে স্বজনরা বলেন, সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, তারা এখন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি।
রিপন হোসেনের মা রিনা বেগম বলেন, “আমার ছেলে বৈধভাবে নির্মাণ কাজের ভিসায় রাশিয়া গেছে। কিন্তু পৌঁছানোর পর কাজের জায়গায় না নিয়ে যুদ্ধের ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন যদি উদ্ধার করতে হয়, ট্রেনিং অবস্থায়ই করতে হবে।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে ফেরত আনার আবেদন জানান।
আরেক ভুক্তভোগীর ভাই রায়হান কবির বলেন, “আমার ভাইসহ সবাই বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে গেছে। সরকারি অনুমোদন নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরও তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। আমার কাছে এক হাজার মানুষের তথ্য আছে, যাদের বৈধভাবে পাঠানো হলেও তারা এখন যুদ্ধে।” তিনি বলেন, “রাশিয়ার দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
আরিফ হোসেনের বাবা স্বপন পাটওয়ারী বলেন, “আমার ছেলে বৈধভাবে রুজি করতে বিদেশ গেছে, এখন যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়েছে। আমরা শুধু আমাদের সন্তানদের সুস্থভাবে ফেরত চাই।”
চাঁদপুরের জলিল খান জানান, “আমার আত্মীয়রা নির্মাণ ও ফ্যাক্টরি ভিসায় গেছে। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, এজেন্সি তাদের সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা বৈধ কাগজপত্র দিয়ে পাঠিয়েছি, যুদ্ধে পাঠাইনি। আমাদের ছেলে যদি কাজ না পায়, তাহলে দেশে ফেরত দিন।”
নাজমুল আলমের ভাই লিয়াদ আলী জানান, “রাশিয়ার সেনারা তাদের জিম্মি করে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে গেছে। গতকাল রাতে ভয়েস এসেছে ‘আমাদের বাঁচান, না হলে লাশও দেশে ফিরবে না।’ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন এই ৩০ পরিবারের সন্তানদের সুস্থভাবে দেশে ফেরানো হয়।”
স্বজনদের দাবি, বৈধ ভিসায় যাওয়া শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা সরকারের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রাশিয়ায় আটকে থাকা সব বাংলাদেশি নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
logo-1-1740906910.png)