কুয়েতে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী এবারো কোরবানির ঈদে দেশে ফিরতে পারছেন না। সারা বছর কঠোর পরিশ্রমের পর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তাদের জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, ফ্লাইট বন্ধ থাকা এবং সীমিত সংখ্যক টিকিটের চড়া দাম তাদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে দাম্মাম হয়ে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে কুয়েত এয়ারলাইন্স ও জাজিরা এয়ারলাইন্স। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সীমিত পরিসরে কুয়েত-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। কিন্তু ঈদ সামনে রেখে অন্য কোনো এয়ারলাইনসকে অনুমোদন না দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন টিকিট কেটে রাখা অসংখ্য যাত্রী।
কুয়েত এয়ারলাইন্স বাতিল হওয়া টিকিট পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ দিলেও যাত্রীদের তুলনায় ফ্লাইট সংখ্যা অনেক কম। ফলে অনেক প্রবাসী নতুন করে টিকিট নিশ্চিত করতে পারছেন না। অন্যদিকে নতুন টিকিটের দাম এতটাই বেশি যে অনেকের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ছুটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ট্রাভেল এজেন্সিতে গিয়ে টিকিটের টাকা ফেরত নিচ্ছেন।
কুয়েত সরকার এখনো অন্য কোনো এয়ারলাইনসকে অনুমোদন না দেওয়ায় তাদের টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রবাসীরা চরম হতাশায় পড়েছেন। যদিও কুয়েতের ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, মিশরসহ বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা কুয়েত সিভিল এভিয়েশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কুয়েত সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, আগামী জুন মাস থেকে নতুন সাজে বিমানবন্দর পুরোপুরি চালু হবে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি ‘সাহেল’ অ্যাপসের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)