গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হান্টা ভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি সতর্কতামূলক বার্তা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হান্টা ভাইরাস সাধারণত মানুষে মানুষে ছড়ায় না; সংক্রমণের জন্য ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘ সময়ের সংস্পর্শ প্রয়োজন হয়। এটি মূলত ইঁদুর বা অন্যান্য রোডেন্টের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত করা জরুরি। ইঁদুরের বিস্তার রোধে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, খাবার ভালোভাবে ঢেকে নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং ইঁদুরের মল বা প্রস্রাব পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত স্থানে জীবাণুনাশক বা পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
হান্টা ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ১ থেকে ৫ সপ্তাহ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও সহায়ক চিকিৎসাই সবচেয়ে কার্যকর। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অক্সিজেন দেওয়া, শরীরের তরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্টিভ কেয়ার প্রদান করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হান্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, পেটব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ইঁদুরের বিস্তার রোধ, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করবে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)