পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:১১
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন, আজ থেকেই রাজ্যে তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ শনাক্ত করে আটক এবং পরে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসন এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিটেইন অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতিতে কাজ করবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে। তবে আগের সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিম অভিবাসীরা যদি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী আবেদন করার যোগ্য হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে মুসলিম অভিবাসীরা এ আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। শুভেন্দু আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ কার্যক্রম চালানো হবে। যদিও ‘ডিলিট’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করবে। পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিএসএফ এরপর বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে বাংলাদেশ কেবল নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া নাগরিকদেরই গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিজেপির নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অতীতে অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের জনমিতিক চিত্র বদলে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পর আসামেও একই ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ইতোমধ্যে কয়েকশ বাংলাদেশি অভিবাসীকে শনাক্ত ও আটক করেছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীও ইঙ্গিত দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ আসামের পথ অনুসরণ করবে।
শুভেন্দু জানান, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ২৭ কিলোমিটার এলাকায় নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএসএফের জন্য নতুন বর্ডার আউটপোস্ট ও অবকাঠামো তৈরির জমিও দেওয়া হবে। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণ করা হবে। আগের সরকার ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে সীমান্তে বেড়া নির্মাণে সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
logo-1-1740906910.png)