ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে অর্থ পাঠানো বাড়িয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৩৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রয়োজন মেটাতে এবং কোরবানির পশু কেনাসহ বিভিন্ন খরচের জন্য প্রবাসীরা অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, এভাবে আয় আসতে থাকলে ঈদের আগে রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ চারটি ব্যাংক থেকে সাত কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময় প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। রিজার্ভে ডলার যোগ হওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরো শক্তিশালী হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় না, বরং পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
logo-1-1740906910.png)