Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:১৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। চাকরি হারানো, মজুরি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি এবং নিরাপত্তা সংকট তাঁদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরণার্থী ও অভিবাসী আন্দোলন গবেষণা ইউনিট (আরএমএমআরইউ) জানায়, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে লাখো বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সংগঠনটি জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে বিদেশগামী কর্মী প্রবাহ ইতোমধ্যেই ৫০ শতাংশ কমে গেছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া বলেন, লেবাননে অন্তত ৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। সৌদি আরবের কোম্পানিগুলো কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক শ্রমিক মজুরি আত্মসাৎ, কম মজুরি এবং মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, সংঘাতের কারণে অন্তত ১১ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। 

আরএমএমআরইউর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২০০ বাংলাদেশি ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন। তবে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি, যা পুনর্বাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আলাদা বাজেট বরাদ্দের আহ্বান জানান, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া যায়। 

সংগঠনটি জানায়, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর মেগা প্রকল্প যেমন নিওম, রেড সি পর্যটন উন্নয়ন এবং কিদ্দিয়া প্রকল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়া ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এসব সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। 

আরএমএমআরইউ সতর্ক করে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পৃক্ততা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

সংগঠনটি জানায়, যুদ্ধের কারণে অভিবাসন নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও সংকট তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নিয়োগদাতা এজেন্ট ও কর্মীদের মধ্যে অর্থ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আরএমএমআরইউ সুপারিশ করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি দূতাবাসে বিশেষ সংকট মোকাবিলা সেল গঠন, ২৪ ঘণ্টা চালু বাংলা ভাষার হটলাইন, ফেরত আসা কর্মীদের বিমানভাড়া ও নগদ সহায়তা প্রদান এবং জরুরি তহবিল গঠনের। 

Logo