বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে এটি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এমপি। তিনি বলেন, “সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত “প্রত্যাশা-২” প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিদেশফেরত অভিবাসীরা সেখানে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় বিদেশফেরত মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাগুলো অনুপ্রেরণামূলক। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে বিদেশফেরতদের কল্যাণে টেকসই উদ্যোগ নিতে চাই। কারণ এই প্রবাসীদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতি চলে।”
তিনি আরো বলেন, অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। তাই তাদের পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, “অভিবাসীরা আমাদের গর্ব। তবে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা থাকায় দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো এবং ফেরত আসা অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, অনেক অভিবাসী ঋণের চাপ নিয়ে বিদেশে যান এবং কাজ না পেলে ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন। তাই তাদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইইউ কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে।”
logo-1-1740906910.png)