Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৪২

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মেরুকরণ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারে প্রথমবারের মতো দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়লাভ করেছে। এই ফলাফলের পর প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য এবং মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য সাধারণত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, “পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয় না, কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন আসবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও তা পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও তা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তার মতে, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে সম্পর্কের অঙ্গীকার আরো স্পষ্ট হবে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি। দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তি ঝুলে আছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির কারণে চুক্তি হয়নি। এবারের নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যেও ক্ষমতায় আসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অধ্যাপক ইয়াসমিন মনে করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। মমতা ব্যানার্জীকে দায়ী করা হলেও আসলে পুরো কাঠামোই দায়ী। অন্যদিকে ফয়েজ আহমদ আশাবাদী, এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দল ক্ষমতায় থাকায় সমস্যার সমাধান সহজ হতে পারে এবং ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি নেতাদের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার বিজিবিকে সতর্ক করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যদিও তিনি মনে করেন বড় কোনো ঘটনা ঘটবে না।

বিজেপি নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। পশ্চিমবঙ্গের জয়লাভের পর কলকাতায় বিজয় মিছিলে একটি মাংসের দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ইতিবাচক বার্তা দিলেও বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যাই হোক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, “বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হোক, আমাদের দিক থেকে আমাদের ওদের সাথে পানির ইস্যু আছে, পুশব্যাকের ইস্যু আছে। সেই ইস্যুগুলো যেই সরকার আসুক না কেন, আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।” তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে এগোবে।

Logo