Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

লাশ হয়ে ফিরছেন কুমিল্লার প্রবাসীরা; এক বছরে ৪২৮ মরদেহ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:২১

লাশ হয়ে ফিরছেন কুমিল্লার প্রবাসীরা; এক বছরে ৪২৮ মরদেহ

কুমিল্লা থেকে প্রবাসে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা অনেকের জন্য হয়ে উঠছে দুঃস্বপ্ন। দালালচক্রের প্রতারণা, অবৈধ ভিসা ও আকামা জটিলতায় বিপাকে পড়ছেন হাজারো প্রবাসী। এর করুণ পরিণতি হলো, গত এক বছরে কুমিল্লার ৪২৮ জন প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জানিয়েছে, নিবন্ধিত না হলে প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফেরাতে নানা জটিলতা তৈরি হয়। কুমিল্লার প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ নিবন্ধিত প্রবাসী থাকলেও অনিবন্ধিত সংখ্যা আরো বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই দালালদের ফাঁদে পড়ে বিদেশে গিয়ে কাজের সুযোগ না পেয়ে নির্যাতনের শিকার হন। কেউ কেউ সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরতে হয়।

গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিদেশে গেছেন। ২০২১ সালে ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৭ জন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২০ জন, ২০২৪ সালে ৯২ হাজার ৯১১ জন এবং ২০২৫ সালে ৭৬ হাজার ৪৫৮ জন প্রবাসে গেছেন। এই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জনশক্তি রপ্তানিতে দেশের শীর্ষ জেলা হয়ে উঠেছে।

প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দালালরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে কাজ দেওয়া হয় না, বরং নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই আকামা নবায়ন না করায় অবৈধ হয়ে পড়েন। কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “অন্ধবিশ্বাসে অনেকে এজেন্সিকে টাকা দিচ্ছে, কিন্তু তারা আকামা করে দিচ্ছে না। ফলে প্রবাসীরা কাজ পেলেও বৈধতা হারাচ্ছে।”

সৌদি আরবে মারা যাওয়া মো. ইয়াসিনের স্ত্রী সাকিনা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে এসেছেন সরকারের অনুদান পাওয়ার আশায়। প্রতিদিনই এমন অসংখ্য পরিবার সেন্টারে ভিড় জমাচ্ছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মেধাবৃত্তি পেয়েছেন ৬২ জন, তিন মাসে মৃত কর্মীর অনুদান দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা পেয়েছেন ২২৯ জন এবং আহত-অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা।

প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীর পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। কুমিল্লা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, “যাদের কাছে ওয়েজ বোর্ডের সদস্যপদ পেপার থাকে, তাদের আমরা তিন লাখ টাকা দিয়ে থাকি।”

কুমিল্লায় দালালচক্রের উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলছে। স্বপ্নের প্রবাস জীবনের পরিবর্তে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীরা মনে করেন, কনস্যুলার সেবা জোরদার, জরুরি তহবিল গঠন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম সহজ করা এবং বিদেশে কার্যকরী সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা এখন জরুরি।

Logo