ভিসা বন্ডের অর্থ বিদেশে পাঠানো সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:২০
বিদেশি ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন আবেদনকারীদের জন্য এই অর্থ পাঠানো ছিল জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এখন থেকে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে ব্যাংকের মাধ্যমেই সহজে অর্থ পাঠানো যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ চলতি ১১ মে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে বাধ্য হলে, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে ওই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব কার্ডে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রিলোড করা থাকবে। যাদের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা ভ্রমণ কোটার আওতায় পুনরায় অর্থ লোড করতে পারবেন। তবে এই অর্থ শুধু ভিসা বন্ড বা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব কিংবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নীতির ফলে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত হবে। এতদিন আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে অর্থ পাঠাতে গিয়ে নানা জটিলতা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হতো।
ভিসা বন্ড হলো বিদেশে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জামানত বা আর্থিক গ্যারান্টি হিসেবে জমা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা। আবেদনকারী নির্ধারিত সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন- এই নিশ্চয়তা দিতেই অনেক দেশ এ ধরনের বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট চেয়ে থাকে। শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ পরে ফেরত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগে বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে। আবেদনকারীরা ব্যাংকের মাধ্যমে সহজে ভিসা বন্ডের অর্থ পাঠাতে পারবেন, যা দালালচক্রের ঝুঁকি কমাবে এবং বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ভ্রমণের সুযোগ আরো সহজ করবে।
logo-1-1740906910.png)