কফিনে করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় মালয়েশিয়ায় নিহত রবিন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১০:৫৫
একটু সুখের আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের রবিউল হাসান রবিন। সংসারের অভাব ঘোচাতে এবং সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দূর প্রবাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে এখন কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় তার লাশ।
নিহত রবিন মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তার তিন সন্তান রয়েছে- বড় ছেলে মিহাদ হাসান (১৫), মেয়ে রাইসা (৫) এবং ছোট ছেলে রোহান (২)। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে ময়লার স্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশটি মর্গে নেওয়া হয়।
রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় যান রবিন। প্রথমে শাহআলম এলাকায় কাজ করলেও ১৫ দিন আগে বুকিত জলিলে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। সোমবার সকালে জালাল ও সেন্টু নামে দুই ব্যক্তি ফোন করে জানান, রবিন নিখোঁজ হয়েছেন। পরে স্থানীয় প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বললে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তখন থেকেই সন্দেহ হয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। রবিনের বড় ভাই খোকন বলেন, “সোমবার সকালে ফোনে জানতে পারি রবিন নিখোঁজ। পরে শুনি, কেউ তাকে হত্যা করে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখেছে। খবর শুনে আমাদের পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। আমরা চাই দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
পরিবারের দাবি, রবিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি। তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
logo-1-1740906910.png)