Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে তিন শর্ত; রাজি না হলে বাজার বন্ধ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:৫০

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে তিন শর্ত; রাজি না হলে বাজার বন্ধ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তে রাজি না হলে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে। ৬ মে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় একাত্তর হলে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে প্রথম বন্ধ হয়। এরপর ২০১৬ সালে চালু হয়ে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে আবার বন্ধ হয়, যা এখনো বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক বৈঠক ও সফর হলেও বাজার চালু হয়নি। মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল—বাংলাদেশে ৫ থেকে ৭টি এজেন্সির বেশি কর্মী পাঠাতে পারবে না।”

তিনি জানান, পরে তিনটি শর্ত মওকুফ করে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবুও বাস্তবে বাজার বন্ধই আছে। “আমরা যদি তাদের শর্তে রাজি না হই, তবে বাজার যেভাবে বন্ধ আছে, সেভাবেই থাকবে,” বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে অনুরোধ করেছেন যেন ওই ৪২৩টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

দপ্তরের কোনো দুর্নীতির দায় নেবেন না জানিয়ে নূরুল হক নূর বলেন, “ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিএমইটির কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলেছি—আমরা আপনাদের কোনো অন্যায়ের দায় নিতে চাই না। জনগণের সামনে দায়ী হতে চাই না।” তিনি বলেন, “যদি ব্যর্থতা দূর করতে না পারি, তবে আমি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে যাব।”

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ১১০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, আরও ৫০টি হবে। কিন্তু সব জায়গায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা হয়নি। অনেক জায়গায় প্রশিক্ষক নেই, আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দিতে হয়। এখন আমরা চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোকে সুসজ্জিত করার চেষ্টা করছি।”

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি প্রবাসীদের সমস্যা খুব ভালোভাবে জানি। দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই ‘প্রবাসী অধিকার পরিষদ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিছু সাধারণ সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধান করতে পারলে প্রবাসীরা খুশি হবে, সরকারও প্রশংসা পাবে।”

অনিয়ম রোধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রেডিং করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী এজেন্সিগুলোর কাজের মান যাচাই করে গ্রেড দেব, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোন কোম্পানি ভালো ও নির্ভরযোগ্য।”

Logo