Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা জরুরি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৪৭

জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা জরুরি

জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সাধারণভাবে নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি বা এনআরবি বলা হয়। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেইসব স্থায়ী প্রবাসী, যারা দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন বাংলাদেশের সঙ্গে অটুট রেখেছেন। এ জনগোষ্ঠীই মূলত ‘বাংলাদেশি ডায়াসপোরা’ নামে পরিচিত।

বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বৈধ কাগজপত্র বা নাগরিকত্বসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, স্পেন, গ্রিস, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ডসহ নানা দেশে তাঁদের উপস্থিতি রয়েছে। কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা বা উন্নত জীবনযাত্রার আশায় বিদেশে গেলেও তাঁদের বড় একটি অংশ দেশের সঙ্গে আবেগিক বন্ধন বজায় রাখেন এবং নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ ধরে রাখেন।

রেমিট্যান্সের বাইরে প্রবাসীরা সরাসরি বিনিয়োগ, দাতব্য কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারও এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। এর অধীনে বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড, বোয়েসেল এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের সহায়তা ও সম্পৃক্ততা জোরদার করছে।

বিএমইটি বিদেশি শ্রমবাজার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করে, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয় এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে। বোয়েসেল বিদেশি নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানি করে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিদেশে যেতে আগ্রহীদের জামানতবিহীন ঋণ দেয় এবং দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনে সহায়তা করে। ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করছে—মৃত শ্রমিকদের মরদেহ দেশে আনা, বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক দেশ তাদের ডায়াসপোরা জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সফল হয়েছে। লেবানন বিজনেস নেটওয়ার্ক ও লাইভ লেবানন প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও সামাজিক উন্নয়নে যুক্ত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবীদের জ্ঞান ব্যবহার করছে। ভারত প্রবাসীদের সঙ্গে দ্বিমুখী যোগাযোগ, নাগরিক সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালু করেছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে তাঁদের সম্ভাবনা কেবল আর্থিক অবদানেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁরা দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সুস্পষ্ট নীতিগত নির্দেশনা এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। এতে প্রবাসীদের আস্থা তৈরি হবে এবং তাঁরা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে আগ্রহী হবেন।

বাংলাদেশি ডায়াসপোরা জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার উৎস। রেমিট্যান্সের পাশাপাশি তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Logo