প্রবাসী আয়ে পরিবর্তনের ঢেউ: যুক্তরাজ্য এগিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৫
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স। তবে চলতি অর্থবছরে এ আয়ের উৎসে বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবার তালিকার পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে, আর যুক্তরাজ্য দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব, আরব আমিরাত তৃতীয় স্থানে এবং মালয়েশিয়া চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ২৯.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে সর্বাধিক ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য—৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে মাত্র ২.৫২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩.৮১ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫.৫ শতাংশ। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২.৯২ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হলো রেমিটেন্স হিসাবের পদ্ধতিগত পরিবর্তন। আগে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী আয় সংগ্রহ করে নিজেদের গেটওয়ে ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাঠাত। ফলে সৌদি আরব বা অন্য দেশ থেকে পাঠানো অর্থও যুক্তরাষ্ট্র বা আমিরাতের নামে পরিসংখ্যানে ধরা পড়ত। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ প্রক্রিয়ায় সংশোধন এনেছে। এখন থেকে যে দেশ থেকে আয় আসছে, সেটিই উৎস হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
তবে যুক্তরাজ্য থেকে হঠাৎ রেমিটেন্স বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত নন। ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, আগের প্রবৃদ্ধি প্রকৃত প্রবাসী আয়ের প্রতিফলন ছিল না, বরং এক্সচেঞ্জ হাউজের হিসাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও আমিরাতের আয় বেশি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করা কঠিন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, রেমিটেন্সের উৎস দেশে ওঠানামার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ রেমিটেন্স হয়ে দেশে আসছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪.৫ লাখ, বাহরাইনে ১.৫ লাখ এবং কুয়েতে ১.৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী আছেন। যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৮ লাখ প্রবাসী রয়েছেন। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশির সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।
logo-1-1740906910.png)