অনেক যাত্রীই অবাক হন একই বিমানে পাশাপাশি বসা দুইজন যাত্রী কেন ভিন্ন ভাড়া দেন? একজন হয়তো ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন, আরেকজন দিয়েছেন ৭৬ হাজার টাকা। অথচ দুজনই একই ইকোনমি ক্লাসের আসনে বসেছেন। আসল রহস্য লুকিয়ে আছে এয়ারলাইনের ভাড়া নির্ধারণের বিশেষ নিয়মে।
বিমানে মূলত দুটি ধরনের ক্লাস থাকে। প্রথমটি হলো ফিজিক্যাল ক্লাস, যা চোখে দেখা যায় ফার্স্ট ক্লাস, বিজনেস ক্লাস, প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ইকোনমি। এগুলো আসনের অবস্থান ও সুবিধা অনুযায়ী আলাদা করা হয়। কিন্তু এর বাইরেও থাকে আরেকটি গোপন ব্যবস্থা, ভার্চুয়াল বা Fare Class।
এই Fare Class আসলে একই ইকোনমি কেবিনের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া নির্ধারণের নিয়ম। যেমন Y, B, M, K, Q, V, L, T, N, X; এগুলো ভাড়ার আলাদা ক্যাটাগরি। যাত্রী শুধু ইকোনমি ক্লাস দেখেন, কিন্তু এয়ারলাইন সিস্টেম দেখে কোন Fare Class-এ তিনি টিকিট কিনেছেন। ফলে একই আসনে বসেও একজন কম ভাড়া দেন, আরেকজন বেশি।
এয়ারলাইন কেন এমন করে? কারণ তারা বাসের মতো ধারাবাহিকভাবে আসন বিক্রি করে না। বরং Revenue Management নামে একটি কৌশল ব্যবহার করে। এতে আগে বুক করা যাত্রীদের জন্য কম ভাড়া রাখা হয়, আর শেষ মুহূর্তে জরুরি যাত্রীদের জন্য ভাড়া অনেক বেশি হয়। কর্পোরেট বা ফ্লেক্সিবল যাত্রীদের জন্য থাকে প্রিমিয়াম ভাড়া।
তাহলে আগে টিকিট কাটলে কি আগে আসন পাওয়া যায়? সব সময় নয়। আসন বরাদ্দ সাধারণত হয় ওয়েব চেক-ইন, এয়ারপোর্ট কাউন্টার বা পেইড সিট সিলেকশনের মাধ্যমে। আগে টিকিট কাটলে অনেক সময় কম ভাড়া পাওয়া যায়, কিন্তু আসন নয়।
এয়ারলাইনগুলো মনে করে, যাত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর। কেউ আগে থেকে পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে কম ভাড়া পান, আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে বেশি ভাড়া দিতে হয়।
তাই একই বিমানে পাশাপাশি বসা দুই যাত্রীর ভাড়া ভিন্ন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আসন একই হলেও টিকিটের নিয়ম ও Fare Class আলাদা হওয়ায় ভাড়ার পার্থক্য তৈরি হয়।
logo-1-1740906910.png)