Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঢাকায় আশ্বাস প্রকল্পের বিশেষ কর্মশালা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০

ঢাকায় আশ্বাস প্রকল্পের বিশেষ কর্মশালা

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের আশ্বাস প্রকল্পের উদ্যোগে ঢাকার পূর্বাচলে দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের কনটেন্ট ক্রিয়েশন বিষয়ে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালাটিতে প্রশিক্ষণ বিষয়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে অভিবাসন বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল মাইগ্রেশন কনসার্ন।

প্রথম দিন প্রশিক্ষণে মাইগ্রেশন কনসার্নের পক্ষ থেকে শোভন আরেফ ও আলী ফয়সাল দীপ অংশগ্রহণকারীদের ভিডিও প্রোডাকশন, স্টোরি টেলিং, মোবাইল জার্নালিজম এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখান। তরুণ কর্মীরা হাতে-কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা অর্জন করেন।

এই কর্মশালা আশ্বাস প্রকল্পের বৃহত্তর লক্ষ্য— মানব পাচার প্রতিরোধে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা CTIP (Counter Trafficking-in-Persons) অ্যাক্টিভিস্টরা ইতোমধ্যেই স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক প্রচারণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি ডায়ালগ এবং রেডিও প্রোগ্রামের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা শুধু সচেতনতা নয়, বরং প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বর্তমানে ৯টি জেলায় ২২৫ জন সিটিআইপি অ্যাক্টিভিস্ট কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ৪২টি ইউনিয়ন পরিষদ মানব পাচার প্রতিরোধে বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা প্রায় ২৪ লাখ টাকা। সাংস্কৃতিক মাধ্যম যেমন পুঁথি-পাঠ, জারি গান, পথনাটক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা ১০ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করেছেন।

এছাড়া, অ্যাক্টিভিস্টরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও যুব সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা যাচাই, নিরাপদ অভিবাসন পরামর্শ এবং মানব পাচার থেকে বেঁচে আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে সহায়তা করছেন। তারা ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় “TIP and Migration Info Corner” চালু করেছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য ও সহায়তা প্রদানের একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আশ্বাস প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য হলো মানব পাচার থেকে বেঁচে আসা পাঁচ হাজার নারী-পুরুষকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ নারী। প্রকল্পটি সুইজারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ১০টি মানব পাচারপ্রবণ জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালার আয়োজকরা জানিয়েছেন, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী বার্তা আরো কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন।

Logo