ফেনীর পরশুরামের যুবক নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫) ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আট মাস আগে গিয়েছিলেন কুয়েতে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি সেখানে পুলিশের হাতে আটক হন এবং ১৫ দিন কারাভোগের পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু দেশে ফেরার মুহূর্তেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর হঠাৎ বুকের ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম। বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ২টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
নুরুল ইসলাম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তার দুই শিশুসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক কারণে নুরুল ইসলাম অনেকটা বাড়ি ছাড়া ছিলেন। পরে কর্মসংস্থানের খোঁজে ২০২৫ সালের আগস্টে কুয়েতে যান। সেখানে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান শেষে পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাভোগ শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
নিহতের বাবা মো. শাহজাহান জানান, রাত ২টার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে মৃত্যুর খবর দেয়। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
ছোট বোন শেফালী আক্তার বলেন, “আমার ভাই দেশে ফিরলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করতেন। এ কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। বিমানবন্দরে নেমে অতিরিক্ত চাপেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে নেমেই নুরুল ইসলাম বুকে ব্যথা অনুভব করে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
logo-1-1740906910.png)