Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রস্তাব নাকচ হলেও বাংলাদেশ পুলিশ এখন এতে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে।

কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই অনুরোধ করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে সিটিটিসি ও অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, দূতাবাস ৩০ সদস্যের একটি ইউনিট গঠনের অনুরোধ করেছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)। এই ইউনিটের মূল কাজ হবে মার্কিন কূটনীতিকদের সুরক্ষা দেওয়া। শুরুতে দূতাবাস তাদের নিজস্ব রিজিওনাল সিকিউরিটি অফিসারকে প্রধান করার প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ পুলিশের আপত্তির মুখে তারা ডিআইজির নেতৃত্বে কাঠামো গঠনে সম্মত হয়।

এই বাহিনী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্পিয়ার প্রোগ্রামের অধীনে কাজ করবে। প্রোগ্রামটির লক্ষ্য হলো স্বাগতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা। বর্তমানে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে স্পিয়ারের কুইক রেসপন্স টিম সক্রিয় রয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের জন্য আলাদা ইউনিট গঠন করা হলে অন্য বিদেশি মিশনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যৌক্তিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনা করা উচিত হলেও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হিসেবে দেখা হতে পারে। তিনি পুরো কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতদের অতিরিক্ত পুলিশ এসকর্ট সুবিধা দেওয়া হতো। তবে ২০২৩ সালের মে মাসে সব কূটনৈতিক মিশনের জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে তৎকালীন সরকার এই সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়।

স্পিয়ার প্রোগ্রাম ২০১৪ সালে চালু হয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের উদ্যোগে। এর আওতায় স্বাগতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়, যারা কয়েক মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।

Logo