Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রবাসীদের মৃত্যু ও মরদেহ ফেরত আনার বাস্তবতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪

প্রবাসীদের মৃত্যু ও মরদেহ ফেরত আনার বাস্তবতা

নোয়াখালীর হাতিয়ার নাজিম ভাইয়ের মৃত্যু আবারো সামনে নিয়ে এসেছে প্রবাসীদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা। গত ২৯ মার্চ নিজ গাড়িতে হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক করেন তিনি। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ৫ এপ্রিল সকালে সৌদি আরবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকলেও মরদেহ দেশে আনার ব্যয় ও জটিলতার কারণে পরিবার অপারগতা জানায়। ফলে সৌদি আরবেই তার দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী বিদেশে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনতে পরিবারকে পড়তে হয় নানা জটিলতায়। দূতাবাসগুলো জানায়, মরদেহ আনার প্রক্রিয়ায় সময় লাগে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। এর মধ্যে থাকে কাগজপত্র যাচাই, অনুমোদন, এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থা এবং খরচের বিষয়।

মরদেহ দেশে আনতে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার এই ব্যয় বহন করতে পারে না। ফলে প্রবাসীর দাফন হয় বিদেশেই। দূতাবাস কর্মকর্তারা বলেন, প্রবাসীদের মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে পাঠানো একটি মানবিক দায়িত্ব হলেও বাস্তবে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটে। এসব দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো মরদেহ আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তবে তারা স্বীকার করেন, সব ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় স্থানীয় আইন ও নিয়মকানুনের কারণে দেরি হয়।

প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড জানিয়েছে, প্রবাসীদের মৃত্যুর পর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে এই সহায়তা সব সময় যথেষ্ট হয় না। পরিবারগুলো মরদেহ আনার খরচের পাশাপাশি দেশে দাফন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় বিপাকে পড়ে।

সহকর্মীদের ভাষায়, প্রবাসীরা সারা জীবন পরিবারের জন্য কষ্ট করেন, টাকা পাঠান। কিন্তু মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দেশে আনার সুযোগ অনেক সময় পরিবার পায় না। ফলে শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন প্রিয়জনরা।

প্রবাসীদের মৃত্যু ও মরদেহ ফেরত আনার বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক সংকটও বটে। ব্যয়, সময় ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক পরিবার মরদেহ দেশে আনতে পারে না। ফলে প্রবাসীদের দাফন হয় বিদেশের মাটিতেই। এ বাস্তবতা প্রবাসী জীবনের কঠিন দিককে সামনে নিয়ে আসে এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে নতুন প্রশ্ন তোলে- কীভাবে প্রবাসীদের শেষ যাত্রা সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করা যায়।

Logo