আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের পবিত্র হজের প্রথম ফ্লাইট। তবে হাতে মাত্র এক সপ্তাহ সময় থাকলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বড় ধরনের উড়োজাহাজ সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে। নিজস্ব বহরে উড়োজাহাজের স্বল্পতা এবং একটি বড় উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য বিদেশে থাকায় এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের মাত্র ১৪টি উড়োজাহাজ চলাচল করছে। অথচ যাত্রীদের চাপ এবং নতুন রুট সামলাতে প্রয়োজন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ। গত পাঁচ বছরে বহরে নতুন কোনো উড়োজাহাজ যুক্ত না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে একটি বোয়িং উড়োজাহাজ মেরামতের জন্য ইতালির রোমে পাঠানো হয়েছে। ৮ এপ্রিল ফেরার কথা থাকলেও এখনও ফেরেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১ এপ্রিলের মধ্যে উড়োজাহাজটি না ফিরলে হজের বহরে যুক্ত করা সম্ভব হবে না এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কর্মকর্তারা আরো বলেন, প্রশস্ত বিমানের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেরামতে থাকা উড়োজাহাজ বহরে না ফিরলে শিডিউল ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নতুন উড়োজাহাজ ছাড়া বিমান স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হবে না। ফ্লিট সংকটের কারণে বিমান ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। অবিলম্বে বহর বৃদ্ধি না করলে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্লাইট স্বল্পতার কারণে হাজিদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সচেতন। ধারাবাহিকভাবে মিটিং হচ্ছে এবং বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে। আশা করা যায়, ফ্লাইট সংকট হবে না।
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে ভিসা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। হজযাত্রীদের বড় অংশকে পরিবহনের দায়িত্ব বিমানের ওপর। তবে প্রশস্ত বিমানের ঘাটতি থাকায় শেষ মুহূর্তে রোমে থাকা উড়োজাহাজটি বহরে না ফিরলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন হজে গমনেচ্ছুরা।
logo-1-1740906910.png)