সাগরপথে রঙিন স্বপ্ন, মুক্তিপণের শিকলে বন্দি রোহিঙ্গা তরুণরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী চক্র। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানো হচ্ছে। তবে মাঝপথেই অনেককে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করছে দালালরা। সময় টেলিভিশন এ নিয়ে প্রচার করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা কালা পুতুর ছেলে হামিদ উল্লাহ স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে জানা যায়, সে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এখন অজ্ঞাত স্থান থেকে দালালরা তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ৪ লাখ টাকা দাবি করছে। একইভাবে খায়রুল বশর ও নূর হাবার সন্তানরাও পাচারের শিকার হয়ে মুক্তিপণের দাবিতে বন্দি রয়েছে।
নূর হাবা জানান, তার ছেলেকে বন্ধুর পরিচয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক পাচার করা হয়। পরে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোনে ছেলের ছবি ও কণ্ঠ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি আশঙ্কা করছেন, নির্যাতনের ভয়ে তার সন্তান দালালদের কথামতো কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে।
খায়রুল বশর বলেন, তার ছেলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ত। গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, সে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া গেছে। দালালরা ক্যাম্পের বাইরে বাজারে ওঁৎ পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে তরুণদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়।
রোহিঙ্গা তরুণী ফরমিনা জানান, দালালরা ক্যাম্পের বাইরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তারা তরুণদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এবং মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়ায় থাকা লোকদের সঙ্গে কথা বলিয়ে প্রলোভন দেখায়। এভাবে তরুণদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, অনেক পরিবারই সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পাচারের পর দালালরা মুক্তিপণ দাবি করছে, কিন্তু অধিকাংশ পরিবারেরই খাবারের টাকাও নেই। ফলে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
আবু তৈয়ব জানান, ক্যাম্পে দালাল চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা তরুণদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে গিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। অনেকেই মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আটক হয়ে জেলখানায় রয়েছে।
এপিবিএন জানায়, সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। আটক বা উদ্ধার হওয়া তরুণদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে এনে কাউন্সেলিং করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক মর্যাদা না পাওয়ায় রোহিঙ্গারা হতাশাগ্রস্ত। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় তারা সহজেই প্রলোভনের শিকার হচ্ছে। এ সুযোগে মানব পাচার চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ভারতেও পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত পাঁচ মাসে কক্সবাজার থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ৩৩৫ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। একই সময়ে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)