মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জিডিপির ১ শতাংশের বেশি ক্ষতির আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ শঙ্কার কথা জানান চেম্বার সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি আরো বলেন, এর ফলে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নামতে পারে।
চেম্বার সভাপতি জানান, সংকটের কারণে বাজেট ঘাটতি বাড়বে এবং সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের দাম, পরিবহন খরচ ও খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। এতে দারিদ্র্য কমার গতি শ্লথ হবে এবং অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন না।
তাসকিন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে দেশের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও ওষুধশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতেও চাপ বাড়ছে। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকট ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়ছে। কনটেইনারপ্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে, ফলে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫০-৭৫ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩০ থেকে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে শিল্প, রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
logo-1-1740906910.png)