Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে তেল-এলএনজির দাম বাড়লে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১২

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে তেল-এলএনজির দাম বাড়লে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসবে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও এলএনজির দাম বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) জানিয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, রপ্তানি-আমদানি হ্রাস পাবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

৯ এপ্রিল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সানেম জানায়, তারা গ্লোবাল ট্রেড অ্যানালাইসিস প্রজেক্টের কম্পিউটেবল জেনারেল ইকুইলিব্রিয়াম মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে।

সানেম বলছে, যদি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ এবং আমদানি দেড় শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ে দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১ শতাংশ কমে যাবে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।

সংস্থাটি আরো জানায়, হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ এলএনজি আমদানি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, যা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চরম নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে।

সানেম তিনটি প্রধান ট্রান্সমিশন চ্যানেল চিহ্নিত করেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে- জ্বালানি, রেমিট্যান্স এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা।

তাদের মতে, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো এখন পর্যন্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও জ্বালানি রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি বার্তার অমিল রয়েছে।

সানেম বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য অবকাঠামোর জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখতে হবে। করমুক্ত নবায়নযোগ্য সরঞ্জাম, স্বল্প সুদে ঋণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি নবায়নযোগ্য খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন প্রকল্প স্থাপনের বাধা কমানো সম্ভব।

তারা আরো সুপারিশ করেছে, স্বল্প মেয়াদে আমদানিভিত্তিক জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনা জরুরি। অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজির জন্য বহুজাতিক চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি একটি কৌশলগত জাতীয় মজুত গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি রেশনিং, শিল্প খাতের উৎপাদন অফ-পিক সময়ে স্থানান্তর এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময়সীমা কমানো সহায়ক হবে বলে মনে করছে সানেম।

Logo